খোদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সুপারিশপত্রকেও পাশ কাটিয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চট্টগ্রামের ট্রাস্টি পদে ঢাকায় বসবাসরত এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ট্রাস্টি বোর্ডের স্মারক প্রকাশের পরপরই এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে, ট্রাস্টি বোর্ড রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষাকে মূল্যায়ন না করে স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
🔴আসলে কি ঘটেছে!
সরকার গঠনের ৬ মাস পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন করে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডেই চট্টগ্রাম বিভাগের ট্রাস্টি হিসেবে একজন ঢাকার বাসিন্দা কর্মজীবী ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়। অথচ অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি চট্টগ্রামের ভোটারও নন, বাসিন্দাও নন।
এই সিদ্ধান্তের পরপরই প্রশ্ন উঠেছে, চট্টগ্রামের মতো বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় যোগ্য ব্যক্তির অভাব ছিল কি না।
🔴রুবেল বড়ুয়ার ক্ষোভ
এ বিষয়ে ট্রাস্টি পদপ্রার্থী ও বিএনপি কর্মী *রুবেল বড়ুয়া* খবর প্রতিদিনকে বলেন, _”আমি গত ১৭ বছর ধরে দল ও জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে ছিলাম। মামলা, হামলা, জেল সবই সয়েছি। ৫ই আগস্টের পর আমাকে এই ট্রাস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমি দায়িত্বও সততার সাথে পালন করেছি।”_
তিনি আরও বলেন, _”পুনরায় আমাকে বহাল রাখতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর DO লেটার এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ানের সুপারিশপত্র মন্ত্রণালয় ও ট্রাস্টি বোর্ডে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু বোর্ড কোনো কিছুই মূল্যায়ন করলো না।”_
রুবেল বড়ুয়ার প্রশ্ন, _”আমার বাড়ি চট্টগ্রাম, ভোটার চট্টগ্রাম, থাকিও চট্টগ্রাম। অথচ ঢাকার একজনকে চট্টগ্রামের ট্রাস্টি বানানো হলো। চট্টগ্রামে কি সত্যিই কোনো যোগ্য লোক ছিল না?”_
🔴রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ
চট্টগ্রামের বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা নির্যাতিত হয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তাদের মূল্যায়ন না করে বাইরের লোককে দায়িত্ব দেওয়া দলের ত্যাগী কর্মীদের জন্য বড় ধাক্কা।
তাদের মতে, ট্রাস্টি বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো চট্টগ্রামকে ছোট করেছে এবং বোর্ডকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে
🔴সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
রুবেল বড়ুয়া ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সরকারের কাছে দ্রুত এ বিষয়ে নজরদারি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় যদি এখনই কার্যকর ভূমিকা না নেয় তবে এটি ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় বা ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সুপারিশ থাকার পরও স্থানীয় ত্যাগী কর্মীকে বাদ দিয়ে বাইরের ব্যক্তিকে চট্টগ্রামের ট্রাস্টি করার ঘটনা এখন শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, এটি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।