July 21, 2026, 4:49 pm
শিরোনামঃ
ব্রেকিংঃ

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে ইইউ নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় আটটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পর ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তিনি আরও জানান, জুন মাসে এই শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হতে পারে এবং ‘গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয়’ বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।

 

 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ন্যাটো মিত্রদের যৌথ নিরাপত্তা রক্ষার চেষ্টা করার জন্য তাদের ওপর শুল্ক চাপানো সম্পূর্ণ অন্যায়।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কোনো ধরনের ভয়ভীতি আমাদের টলাতে পারবে না।’

 

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, ‘আমরা ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করব না।’ তিনি জানান, সুইডেন এরই মধ্যে ইইউ দেশগুলো, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে আলোচনা শুরু করেছে।

 

 

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় সবসময় দৃঢ় থাকবে যা ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড থেকেই শুরু হয়।’

 

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, এই শুল্ক হুমকি তাদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।

 

 

এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব। এরই মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য গ্রিনল্যান্ডে একটি সীমিত সংখ্যক সেনা পাঠিয়েছে, যাকে তারা ‘রিকনেসাঁ মিশন’ বলে উল্লেখ করছে।

 

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ এক পোস্টে বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ‘খুব বিপজ্জনক খেলা খেলছে’ এবং বিষয়টি ‘পৃথিবীর নিরাপত্তা ও টিকে থাকার’ সঙ্গে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও ভাবছেন ট্রাম্প।

 

এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। শনিবার(১৭ জানুয়ারি) ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, আরহুস, ওডেন্সে ও আলবর্গসহ একাধিক শহরে এবং গ্রিনল্যান্ডের নুক, আসিয়াত, কাকোরতোক ও ইলুলিসাতে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় রাজধানী কোপেনহেগেনের হাজার হাজার বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অভিমুখে পদযাত্রা করেন।

 

মতামত জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রে যোগদানের বিরোধী। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণেরই রয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ লাইক দিন

প্রযুক্তি সহায়তায় bdit.com.bd