বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস
সৌরভ ভট্টাচার্য ◾স্টাফ রিপোর্টার
গত ৫ তারিখ রোজ শুক্রবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস পিআইএইসআর।
চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্ত মঞ্চে সারাদিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করলো এই মানবাধিকার সংস্থাটি।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বেলুন উড়িয়ে এবং কেক কেটে প্রোগ্রামের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও আমার দেশ পত্রিকা’র আবাসিক সম্পাদক জনাব জাহিদুল করিম কচি,প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ৯ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জনাব আবু সুফিয়ান,প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জি এম আই টি ও পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব কামরুল কায়েস চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জনাব সাঈদ কবির সহ আরো অনেক গুণীজন ব্যক্তিবর্গ।
প্রায় পাঁচশত মানবাধিকার কর্মীদেরকে নিয়ে সারাদিনব্যাপী এই জমকালো নানা আয়োজনের মধ্যে অন্যতম আয়োজন ছিল দেশের বিভিন্ন মানবিক কাজে অবদান রাখায় বিশেষ কিছু গুণী ব্যক্তিদেরকে সংবর্ধনা,গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা।
এছাড়াও নাচ,গান,ছোট বড় ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে ফ্যাশন শো সহ আরো বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় দুপুর থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত উৎসবমুখর ছিল পুরো শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণ।
জনাব জাহিদুল করিম কচি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করার পর বক্তব্যে বলেন আজকের এই মহান আয়োজনে থাকতে পেরে আমি অনেক খুশি। আমি বিশ্বাস করি পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সুবিধা বঞ্চিত মানুষের অন্যতম পরম বন্ধু হবে। এ সংগঠনের প্রতিটি কর্মী মানবতার জন্য কাজ করে যাবে।এই সংগঠনের যেকোনো কাজে যেকোন সময় আপনারা আমাকে কাছে পাবেন আমি আপনাদের সব সময় সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জনাব সৈয়দ কবির বলেন আমাদের সবার প্রথম পরিচয় হলো আমরা সবাই মানুষ।আমাদের উচিৎ মানুষের বিপদে আপদে এগিয়ে যাওয়া।আমি চাই পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস মানুষের যে পাঁচটি মৌলিক অধিকার রয়েছে তার জন্য কাজ করে যাবে। আইনিভাবে সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের অধিকার আদায়ে ভালোভাবে কাজ করে যাবে।বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় এই ধরনের সংগঠনগুলোকে সাপোর্ট করে এবং সহযোগিতা করে।
জনাব আবু সুফিয়ান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আজকের এই আনুষ্ঠানিক আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমার সামনে উপবিষ্ট এতগুলো মানবিক কর্মীদের দেখে সত্যিই আমি বিমোহিত ও আবেগআপ্লুত। এই বাংলাদেশ পরিবর্তন করার জন্য এবং এই দেশের অধিকারবঞ্চিত মানুষগুলোর অধিকার আদায়ের জন্য এতগুলো মানবাধিকার কর্মী একত্রিত হওয়া মানে এটি একটি মহাশক্তি। আমি বিশ্বাস করি এই সংগঠনটি এক সময় পুরো বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম একটি মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। সবার উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন আমি চাই আপনারা গরিব-দুখী, মেহনতি মানুষ, সুবিধা বঞ্চিত-অধিকার বঞ্চিত পথ শিশুদের জন্য সবসময় কাজ করে যাবেন। আমি আশা করছি এই সংগঠনটি হবে দেশের অধিকার বঞ্চিত মানুষের প্রিয় সংগঠন।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা জনাব কামরুল কায়েস চৌধুরী বলেন পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস হলো আমার প্রাণের ও আবেগের সংগঠন।আমি গত ১৫/২০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজ করে আসছি।এই সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অধিকার বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষকে নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি মানুষ কিভাবে না খেয়ে, সু চিকিৎসা না পেয়ে,প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে মারা যায়।এই সমাজের অনেক সুবিধা বঞ্চিত মানুষদেরকে আমি দেখেছি টাকার অভাবে ভালো খেতে পারে না,ভালো কাপড়চোপড় পড়তে পারে না, ভালোভাবে মাথা গোজার ঠাইটুকুও তাদের নেই। আমি চেষ্টা করেছি আমার নিজের উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সহযোগিতার হাত বাড়ানোর। আমি জানি এ সমাজে একা কখনো সবকিছু করা যায় না বা সম্ভব নয়। আর তাই আমি মনের মধ্যে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই মানবাধিকার সংগঠন পিচ ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস’র যাত্রা শুরু করেছি। গত কয়েক মাসে আমি আমার টিম নিয়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি সুবিধা বঞ্চিত ও অধিকার বঞ্চিত এলাকায় গিয়ে অনেকগুলো মানবিক কাজ করেছি। আজকে আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমি অনেকগুলো গুণীজন ব্যক্তিদেরকে কাছে পেয়েছি যেটা আমার জন্য অনেক বেশি সৌভাগ্যের। আমার আজকের এই অনুষ্ঠানের দিনটি সারা জীবন আমার কাছে ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমার এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে হাজারো মানবিক কর্মী সারা বাংলাদেশে কাজ করছে নিঃস্বার্থভাবে আলহামদুলিল্লাহ। আমি তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি আমরা যদি আমাদের মনুষ্যত্বকে কাজে লাগিয়ে সমাজের সকল স্তরের লোক একত্রিত হয়ে মানবিক কাজ করি,সুবিধা বঞ্চিত অধিকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ায়, গরিব-দুঃখীদের কে সহযোগিতা করি তাহলেই একদিন এই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ইনশাল্লাহ।