January 11, 2026, 8:31 pm
শিরোনামঃ
ব্রেকিংঃ

পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার ফ্লো মেশিন, বাজিমাত কৃষি বিভাগ

প্রণয় দাশ গুপ্ত শিমুল ::

দাম বাড়লেও চলতি বছর সারাদেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এ পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদিত। এতে তেমন আমদানি না হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়েছে। আবার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও উপকৃত হয়েছেন। ফলে নতুন মৌসুমে আরও বেশি পেঁয়াজ আবাদের পরিকল্পনা নিয়েছেন কৃষকরা।

 

পুরো বছরজুড়ে সরবরাহে ঘাটতি না পড়ার মূলে ছিল পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার। আগে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন করেও পচে যাওয়ার কারণে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতো। এবার পেঁয়াজের পচন রোধ করতে পারায় সেই ঘাটতি হয়নি। পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকপর্যায়ে ‘এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি’ ব্যবহারের মাধ্যমে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাজিমাত করেছে সরকারের কৃষি বিভাগ।

 

এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি কী?

পেঁয়াজ সংরক্ষণের ‘এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি’ হলো একটি আধুনিক পদ্ধতি। এ প্রযুক্তিতে পেঁয়াজের স্তূপ বা গাদার ভেতর ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিয়ন্ত্রিত বাতাস প্রবাহিত করা হয়। এতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কম থাকে এবং পেঁয়াজ বেশি দিন ভালো থাকে।

 

 

এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য পেঁয়াজ সরাসরি মেঝেতে না রেখে মাচার ওপর গাদা করে রাখা হয়, যাতে নিচে বাতাস চলাচল করতে পারে। পেঁয়াজের স্টোর রুম বা ঘরের নিচে বা পাশে একটি ব্লোয়ার লাগানো হয়। যেটি পেঁয়াজের গাদার মধ্যে জোরে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। মূলত ব্লোয়ারটিই হলো এয়ার ফ্লো মেশিন। মেশিনটি চালু থাকলে ব্লোয়ার থেকে বাতাস চারদিকে ঘুরে। এতে পেঁয়াজ শুকনো রাখে, তাপমাত্রা কমায়, আর্দ্রতা বের করে ছত্রাক, পচা, গলা ও নরম হওয়া কমায়। ইতোমধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার করে অনেক কৃষক ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ ভালো রাখতে পেরেছেন বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

 

 

 

ফরিদপুরে ১০ টনের একটি এয়ার ফ্লো মেশিনের পাশে প্রায় ২৫০ মণ পেঁয়াজ রাখা যায়, যার দাম ১৫ হাজার টাকা। ১২ টনের মেশিনের দাম (৩০০ মণ পেঁয়াজ রাখা যায়) ১৭ হাজার ও ১৪ টন (৪০০ মণ পেঁয়াজ রাখা যায়) সাইজের মেশিনের দাম ২০ হাজার টাকা।

 

‘দেশে যত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, তার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নানান কারণে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে সংরক্ষণের অভাবে পচে যায়।’ -সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার

 

নষ্ট হতো ৩০-৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ

কৃষি বিভাগ বলছে, আগের বছরগুলোতে উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পচে যেতো। এতে বেশি উৎপাদন করেও চাহিদায় ঘাটতি তৈরি হতো। এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহারে সে পচন কমে পাঁচ শতাংশের নিচে নেমেছে। ফলে আগের বছরগুলোতে যেখানে পাঁচ থেকে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো, সেখানে গত এক বছরে পেঁয়াজ আমদানি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমেছে। এতে সামনের বছরগুলোতে উৎপাদন আরও বেড়ে দামও ভোক্তার সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

 

 

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সদ্য অবসরে যাওয়া ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার সম্প্রতি বলেন, ‘দেশে যত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, তার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নানান কারণে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে সংরক্ষণের অভাবে পচে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে কমবেশি ৩০ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা থাকে। উৎপাদন বেশি হলেও নষ্ট হওয়ার কারণে চার থেকে ছয় লাখ টনের ঘাটতি তৈরি হতো।’

 

পেঁয়াজের দরদাম

বিগত কয়েক বছরের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেওয়া বাজারের পেঁয়াজের দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বছরের এই সময়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। একই সময়ে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ওই দুই বছরে প্রতি বছর সাত লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়েছে। যার বেশিরভাগ এসেছে ভারত থেকে। ওই দুই বছরের তুলনায় দেশের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামের চিত্র ভিন্ন। কোনো আমদানি না হলেও বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ।

 

 

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ছে

বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় পেঁয়াজ চাষ হয়। তবে পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর ও রংপুরে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়।

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৭৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮৭ টন। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে চারা, কন্দ ও বীজ মিলিয়ে দুই লাখ ৮০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন।

 

দেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলায়। পাবনা জেলাজুড়ে গত বছর ৫৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। এতে প্রায় নয় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।

 

জেলার কৃষি প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র কুন্ডু বলেন, ‘আগে প্রযুক্তির অভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ চার মাসের বেশি রাখা যেতো না। এখন এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছে। এতে সারা বছর পেঁয়াজের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘উৎপাদিত সব পেঁয়াজ একত্রে ভোগ করে ফেলা সম্ভব হয় না। এতে সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত সুযোগ না থাকায় আগে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পচে যেতো। এখন প্রান্তিক পর্যায়ে এয়ার ফ্লো মিটার ব্যবহারের কারণে পেঁয়াজের পচন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে বছরজুড়ে চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের সমন্বয় ঘটেছে। যার ইতিবাচক প্রভাব গত একটা বছর আমরা পেয়েছি। এই সময়ে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। উপরন্তু এখনো অনেক কৃষকের হাতে গত মৌসুমের পেঁয়াজ রয়েছে। দাম পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।’

 

 

‘চলতি বছর পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন। তারা আরও বেশি চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি উৎপাদন হবে। দাম ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। কৃষকরাও উপকৃত হবেন।’ -কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান

 

দেশে উপজেলা পর্যায়ে রেকর্ড পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে পাবনার সুজানগর উপজেলায়। সুজানগরে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন চার শতাধিক কৃষক।

 

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিগত মৌসুমে শুধু সুজানগর উপজেলায় ১৭ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল। পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে তিন লাখ ২০ হাজার টন। গত অর্থবছর সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৩২০ জন কৃষককে এয়ার ফ্লো মেশিন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০০ কৃষক নিজস্ব অর্থে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। এতে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা

 

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন। তারা আরও বেশি চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি উৎপাদন হবে। দাম ভোক্তাদের সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। কৃষকরাও উপকৃত হবেন।’

 

পাবনার বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া ইউনিয়নের দয়ালনগর গ্রামের কৃষক মো. সিদ্দিক আলী। তিনি এবার আট বিঘা জমিতে মুড়িকাটা জাতের পেঁয়াজ লাগিয়েছেন। এক-দুই মাসের মধ্যে মুড়িকাটা ফলন আসার পর নতুন করে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ লাগানোর কথা জানান তিনি।

 

সিদ্দিক আলী বলেন, শুকনো মৌসুমের পেঁয়াজের দুটি জাত ‘সুপার কিং’ এবং ‘সুপার কুইন’ লাগাবো। এগুলোতে ফলন ভালো হয়। আমরা আগে মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতাম। এখন কৃষি অফিস থেকে নতুন মেশিন (এয়ার ফ্লো) দিয়েছে। পেঁয়াজ রাখার জন্য আলাদা ঘরও তৈরি করছি। আশা করছি সামনের মৌসুমে বছরজুড়ে আমাদের এলাকার কৃষকরা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারবেন।

 

‘আমি দুটি এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার করি। এ মেশিন ব্যবহার করার কারণে পেঁয়াজ সহজে পচে না। বেশ কয়েকমাস শুকনো থাকে। বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়।’- কৃষক হান্নান মাতুব্বর

 

লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ জেলা ফরিদপুর। জেলায় গত মৌসুমে ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

 

 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বেশি পেঁয়াজের আবাদ হয়। উপজেলার আটঘর ও সাড়ুকদিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল বলেন, ‘আমার ব্লকে অনেক কৃষক এয়ার ফ্লো মিটার ব্যবহার করছেন। কয়েকজনের সাত-আটটি মিটারও রয়েছে। চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে লাভবানও হয়েছেন কৃষকরা।’

 

আটঘর ইউনিয়নের জয়কালী গ্রামের কৃষক হান্নান মাতুব্বর বলেন, ‘আগের বছরগুলোতে পেঁয়াজ চাষে তেমন লাভ হয়নি। তবে গত মৌসুমে আমি চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। নতুন বাড়ি করার কারণে এক মাস আগেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিই। তাতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো পেঁয়াজ বিক্রি করি। পেঁয়াজ চাষের লাভের টাকা নতুন বাড়ি বানাতে খরচ করেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘আমি দুটি এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার করি। এ মেশিন ব্যবহার করার কারণে পেঁয়াজ সহজে পচে না। বেশ কয়েকমাস শুকনো থাকে। বাজারে ভালো দামও পাওয়া যায়।’

 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘শুধু গত বছর নয়, আগেও চাহিদার চেয়ে পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন হতো। কিন্তু সংরক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার না করার কারণে অংশ পচে যেতো। এতে চাহিদায় ঘাটতি হতো। চলতি বছর সেই ঘাটতি হয়নি। যে কারণে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। দেখা যাচ্ছে, এখনো কৃষকের হাতে পেঁয়াজ রয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আগে পেঁয়াজ বেশিদিন সংরক্ষণ করা যেতো না। এবার কৃষকদের এয়ার ফ্লো মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের ফলে পেঁয়াজের পচন রোধ করা যাচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণও করা যাচ্ছে। বছরের পুরোটা সময় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ লাইক দিন

প্রযুক্তি সহায়তায় bdit.com.bd