দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটি—২০২৪ সালের গণহত্যা ও নৃশংস দমন–পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার দুপুরে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, “রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিরস্ত্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সংঘবদ্ধ আক্রমণ সংঘটনের নির্দেশ দিয়েছেন অভিযুক্ত। প্রমাণিত অভিযোগসমূহ আইনের চোখে মানবতাবিরোধী অপরাধ।”
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের বিভিন্ন বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে মারণাস্ত্র, হেলিকপ্টার এবং গোয়েন্দা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন হাসিনা। এসব অভিযানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়। আদালত এ ঘটনাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অপরাধ বলে চিহ্নিত করে।
একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদের সাজা পেয়েছেন। তবে হাসিনা ও কামালের ক্ষেত্রে আদালত সর্বোচ্চ দণ্ড—মৃত্যুদণ্ড—প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল চত্বর ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি মামলা, যার প্রভাব রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। অপরদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায়ের কঠোরতা নিয়ে সমালোচনা করেছে এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিতে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছে।
প্রতিরক্ষা দল জানিয়েছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর হবে না বলেও আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রায়কে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশবাসী এখন নজর রাখছে—আপিলের পর উচ্চ আদালত কী সিদ্ধান্ত দেয়।
তবে রায় ঘোষনার পরপরই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা নেত্রীর ফেসবুক পেজে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
তারাই এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিশোধ বলে দাবি করছে।
তারা এ রায়কে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করছে।