January 11, 2026, 8:35 pm
শিরোনামঃ
ব্রেকিংঃ

রাশিয়ার তেল কেনায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ভারতের ওপর আরও শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে নয়াদিল্লি। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প যে ক্ষুব্ধ তা-ও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তার ক্ষোভের কারণ জানতেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।

 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এসব বলেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে ভারত। আমরা ওদের উপর খুব তাড়াতাড়ি আরও বেশি শুল্ক আরোপ করতে পারি।

 

 

তবে এসময় আরও এক বার মোদীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের মুখে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন খুব ভালো মানুষ। উনি দারুণ মানুষ। কিন্তু উনিও জানতেন, আমি খুশি নই। আমাকে খুশি রাখা জরুরি ছিল।

 

ট্রাম্প ‘অখুশি’ থাকার কারণ সবিস্তার ব্যাখ্যা না করলেও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত সুনজরে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত অক্টোবর মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছেন মোদী। যদিও ভারতের তরফে সেই সময় স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি মোদীর।

 

 

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার জন্য শাস্তি হিসেবে ভারতের উপরে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে এ দেশের পণ্যের তাদের মোট শুল্ক ৫০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবেও রুশ তেল আমদানি বন্ধ করার চাপ রয়েছে নয়াদিল্লির উপর। তা ছাড়া রাশিয়ার দুই তেল সংস্থা রসনেফ্ট ও লুকঅয়েলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে নয়াদিল্লি অবশ্য বার বারই জানিয়ে এসেছে, দেশের উপভোক্তাদের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা। কোন দেশ থেকে কতটা সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, মাথায় রাখা হবে সেটাও। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই মস্কোর তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। সেই সময় তেল বিক্রি অব্যাহত রাখতে বড় অংকের অর্থ ছাড় দেওয়া ঘোষণা করে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন। ভারতও তেল কেনার বিষয়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ ক্রমশ বাড়াতে থাকে। চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক।

 

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করছে রাশিয়া। বিশ্বে বহু যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলেও এখনও পর্যন্ত রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পারেননি ট্রাম্প। তাই পুতিনের দেশকে ‘ভাতে মেরে’ আলোচনার টেবিলে বসাতে চায় হোয়াইট হাউস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ লাইক দিন

প্রযুক্তি সহায়তায় bdit.com.bd