January 12, 2026, 12:17 am
শিরোনামঃ
ব্রেকিংঃ

ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন, এমন বিদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ফ্যাক্টচেকিং, কনটেন্ট মডারেশন, ভুল তথ্য প্রতিরোধ বা অনলাইন নিরাপত্তায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরাও নতুন নীতির আওতায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

এ নির্দেশনার বিষয়ে প্রথমে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং পরে এনপিআর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘সুরক্ষিত মতপ্রকাশ’ বা ফ্রি স্পিচ দমনকারী বা তাতে জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন অবশ্যই প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

 

চিঠিতে ভিসা আবেদনকারীদের অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে যাদের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি, কনটেন্ট মডারেশন, ফ্যাক্টচেকিং, ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বা অনলাইন নিরাপত্তার মতো কাজে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে। দূতাবাস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর লিংকডইন প্রোফাইলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের লেখালেখি বা সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা থাকলে তা খতিয়ে দেখতে।

 

যদি কোনো তথ্য থেকে জানা যায় যে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে ‘ভিসার জন্য অযোগ্য’ ঘোষণা করবেন।

 

নতুন এই নির্দেশনা প্রথমে এইচ–১বি ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাধারণত প্রযুক্তি খাতসহ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশিদের এ ভিসা দেওয়া হয়। তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত এটি সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য করা হবে।

 

এর আগে গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে, তাদের দেশের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

 

 

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি-সংক্রান্ত কাজকে ‘সেন্সরশিপ’ হিসেবে দেখলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান পার্টনারহিরোর ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস গোগুয়েন হান্সবার্গার বলেন, শিশু সুরক্ষা, অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি, যৌন অপরাধ প্রতিরোধ-এসবই ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটির আওতায় পড়ে। এগুলোকে সেন্সরশিপের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

 

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর থেকেই প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

 

 

সূত্র: রয়টার্স


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ লাইক দিন

প্রযুক্তি সহায়তায় bdit.com.bd