January 12, 2026, 2:21 am
শিরোনামঃ
ব্রেকিংঃ

‘উপদেষ্টারা বলেন অটোরিকশা তুলে দেন, আমি বলি শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি’

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আদিলুর রহমানসহ সব উপদেষ্টা আমাকে বলেন যে, ঢাকা শহরে আর ব্যাটারিচালিত রিকশা রাখা যাবে না। এগুলো উঠিয়ে দেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, রিকশা মানে শুধু একটি রিকশা বা একজন চালক নয়। এর পেছনে একটি পরিবার আছে; তাদের জীবন-জীবিকা আছে। সেজন্য আমি বলি—রিকশা উঠিয়ে দেওয়ার চেয়ে শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি।

 

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে ‘বুয়েট উদ্ভাবিত তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

রাস্তায় বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ঢাকার সড়কে প্রথম যে সমস্যা সেটা হলো বাস নিয়ে। তারা যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। বিশৃঙ্খলার মূল কারিগর বাসগুলো। আমরা বাসের বিশৃঙ্খলা কমানোর জন্য আগামীকাল বা পরশু একটি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করবো। যেখানে শুধু নির্দিষ্ট জায়গায় বাস থামবে। যত্রতত্র থামানোর সুযোগ থাকবে না। ক্রমান্বয়ে আমরা বিভিন্ন রুটে বাসের এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবো।

 

উচ্চগতির গাড়ি ঢাকার রাস্তায় থাকায় জ্বালানি ও সময় অপচয় হচ্ছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা বলেন, ঢাকায় যেসব গাড়ি চলাচল করে, তাতে দেখা যায় তাদের ইঞ্জিনের গতি ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি ৬-৭ কিলোমিটার। এতে উচ্চগতির ইঞ্জিন ব্যবহার করা গাড়িগুলোতে ফুয়েলের ব্যাপক অপচয় ঘটছে। সময়ও নষ্ট হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, গড় গতি কম, তারপরও দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। এটার কারণ হলো বিশৃঙ্খলা, নিয়ম না মানা। ঢাকায় রাস্তা কম, প্রসারিত না; এটা যেমন ঠিক। তেমনি যে রাস্তা আছে, তা শৃঙ্খলা মেনে ব্যবহার করে ঢাকায় গাড়ি চলাচলের গড় গতি বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে নিরাপদ যাত্রাও নিশ্চিত করা সম্ভব। সেজন্য আমরা বুয়েটের তৈরি করা ই-রিকশা চালু করছি। চারটি রুটে এ রিকশা পাইলটিং হিসেবে চালানো হচ্ছে। দ্রুত ই-রিকশা সারা ঢাকা শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, ঢাকা শহর তো এক শ্রেণির মানুষের জন্য না। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করেন। বিশেষত যারা শ্রমজীবী মানুষ। তাদের এখানে দৈনন্দিন ভূমিকা অত্যন্ত বিরাট। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও আর্থসামাজিক ভূমিকায় তাদের অবস্থান অত্যন্ত জোরালো।

 

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই-আন্দোলনেও তারা বড় ভূমিকা পালন করেছেন। তাই যেকোনো পরিকল্পনা নেওয়া হোক না কেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা জনবান্ধব হতে হবে। বিশেষ করে যারা শ্রমজীবী মানুষ, তাদের স্বার্থ রক্ষা  করতে হবে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের পেইজ লাইক দিন

প্রযুক্তি সহায়তায় bdit.com.bd